Home Blog

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন: ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা, বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ দিনাজপুর-৩ সদ

0

নিজস্ব প্রতিবেদক


দিনাজপুর-৩ সদর আসনের মোহনপুর কেন্দ্রের অধীনে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, বিএনপির কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্লিপ এবং নগদ অর্থ বিতরণ করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দল ভোটারদের নগদ অর্থ বা উপহার দিয়ে ভোটের জন্য প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। বিষয়টি নজরে আনতে নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন: ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা, বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ দিনাজপুর-৩ সদর

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসনের মোহনপুর কেন্দ্রের অধীনে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, বিএনপির কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্লিপ এবং নগদ অর্থ বিতরণ করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দল ভোটারদের নগদ অর্থ বা উপহার দিয়ে ভোটের জন্য প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। বিষয়টি নজরে আনতে নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরকে নিয়ে ‘মিথ্যা তথ্য’ ছড়ানোর অভিযোগ

0

নিজস্ব প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে বলেন, জেলা আমিরের কাছে থাকা টাকা নির্বাচনী প্রচারণার কাজে ব্যবহারের জন্য ছিল—এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

তিনি দাবি করেন, উক্ত অর্থ ছিল তার ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক লেনদেনের টাকা। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তিনি।

দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, দিনাজপুর

দিনাজপুর-৩ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত বিলবোর্ড স্থাপন করেছেন তিনি।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর জন্য সর্বোচ্চ ২২টি বিলবোর্ড স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের সামনে বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৩০টি, যা অনুমোদিত সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি।

আরও গুরুতর অভিযোগ হলো—নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ হওয়ার পরও এসব বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, যা সরাসরি নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং সমান সুযোগের নীতির পরিপন্থী। তারা বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রার্থীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দিনাজপুর-৬ আসনের মানুষের ভোট কেনা যায় জিলাপি দিয়ে? এবং এ কারণে বিরামপুরে জেলার দাবি করা যাবে না? বিরামপুরে জেলা হলে শুধু “দালাল” তৈরি হবে?

0

বিরামপুর প্রতিনিধি

মুসফিকুর রহমান

প্রশ্নগুলো শুনতে অদ্ভুত মনে হতে পারে, তবে এমন কথা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একজন প্রার্থীর। তিনি বলেছেন, দিনাজপুর-৬ আসনের মানুষ “জিলাপির বিনিময়ে ভোট দেন” বলে “জেলা চাওয়ার” অধিকার নেই।

এবং জেলা হলে আর কিছু হবে না, শুধু “দালাল” তৈরি হবে। অথচ ভৌগলিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে বিরামপুরে জেলা বাস্তবায়ন এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি। তার কাছে জেলা মানে শুধু ডিসি, এসপির নিয়োগ।

তার কাছে জেলা মানে ডিসি, এসপির অফিসে থাকা তথাকথিত “দালাল”। তিনি তাচ্ছিল্য করেছেন বিরামপুরের পূর্ব নাম চরকাই নিয়েও। তিনি উপহাস করে বলছেন, একসময় বিরামপুরে থানাও ছিল না। অথচ ইতিহাস বলে, বিরামপুরেও হতে পারত মহকুমা। এবং সেটি হলে পরবর্তীতে জেলা হওয়া ছিল সময়ের ব্যাপার।

তিনি প্রায়ই বলেন, “আপনাদের এলাকার এই সমস্যা, ওই সমস্যা”। “নিজের এলাকা” এটি তার নয়, শুধু ভাষায় নয়, অন্য কিছুতেও সেটি ফুটে ওঠে প্রায়ই। বিরামপুর পাইলট স্কুলের মাঠে গিয়ে তাই তিনি পশ্চিম দিক কোনটি খুঁজে বেড়ান, অনেক এলাকার নামই শোনেন জীবনে প্রথম। সেটি অবশ্য একদিক দিয়ে স্বাভাবিকও। যার জন্ম, বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে সবই দূরের এক অঞ্চলে, তার কাছে দিনাজপুর-৬ হয়ত শুধুই সংসদে যাওয়ার একটি অবলম্বন।

বিরামপুরসহ ঘোড়াঘাট, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুরের মানুষের আজ সময় এসেছে নিজেদের ভোটের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করার। সময় এসেছে এটি দেখিয়ে দেওয়ার, এ অঞ্চলের মানুষকে কেনা যায় না, সেটি শুধু জিলাপি দিয়ে দূরের কথা। সময় এসেছে, নিজেদের প্রাণের দাবিকে উপহাস করা কাউকে লাল কার্ড দেখানোর। যারা এখনো সেই সময়ে বাস করেন—যখন জিলাপি দিয়ে ভোট কেনা যায়, ভয়ভীতি দেখিয়ে মিছিল মিটিংয়ে নেওয়া যায়, ডিসি-এসপি অফিসে শুধু “দালাল” তৈরি হয়—তাদেরকে ভোটের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার। এ অঞ্চলের মানুষ হয়তো অনেকের কাছেই ‘সহজ-সরল’, তবে এ অঞ্চলের মানুষ যে ‘বোকা’ নন, সেটি দেখিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে আজ।

 

দিনাজপুরে ছাএশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ।

শাহজালাল

দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ

আজ (৬ ফেব্রুয়ারি) শুক্রবার সকাল ৯টায় মর্ডান মোড় থেকে শুরু হওয়া র‍্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে দিনাজপুর পলিটেকনিক গিয়ে এক সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

“মেধা,সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি আগামীর বাংলাদেশ”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনাজপুর শহর সভাপতি মুশফিকুর রহমান এর নেতৃত্বে র‍্যালিতে সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। নেতাকর্মীরা মাথায় , হাতে সংগঠনের পতাকা ও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা এবং বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে আনন্দঘন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে র‍্যালিটি পলিটেকনিক মোড়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মাসুদ রানা সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর শহর সভাপতি মুশফিকুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর -৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এ্যাডভোকেট মাইনুল আলম।

পরিশেষে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং ছাত্রসমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে এবং র‌্যালি সফল করার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সমাবেশ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়

দিনাজপুরে বিএনপির সমাবেশের কারণে ব্যাহত জনচলাচল, ক্ষোভে সাধারণ মানুষ

0

দিনাজপুর প্রতিনিধি
এইচ এফ আর

বিএনপির নির্বাচনি সমাবেশ ও মিছিলের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় হারিকেন মার্কা প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী লায়লাতুল রিমা অটোতে করে যাওয়ার পথে বাধার মুখে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপির নেতা–কর্মীরা নির্বাচনি মিছিলের কথা উল্লেখ করে তাকে নির্ধারিত রাস্তা পরিবর্তন করতে বলেন। এতে শুধু একজন প্রার্থী নয়, ওই সড়ক ব্যবহারকারী সাধারণ জনগণও চরম দুর্ভোগে পড়েন।

রাস্তা আটকে দেওয়ায় পথচারী, অটো, রিকশা এবং জরুরি কাজে যাওয়া মানুষজন দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকেন। অনেককে বিকল্প পথে যেতে বাধ্য করা হয়, ফলে সময় ও ভোগান্তি দুটোই বাড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে এভাবে রাস্তা অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। এতে নির্বাচন নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে যেন সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি না হয়।

প্রকাশ্যে নারী ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সেই ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

0

দিনাজপুর প্রতিনিধি

এইচএফ রায়হান

গাজীপুরে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে এক নারী ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আশিক ইসলাম ওরফে স্বপন (২৭) নামে ছাত্রদলের সাবেক এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আশিক ইসলাম মহানগরের গাছা থানার কলমেশ্বর এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের গাছা থানার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

নিহত রানু বেগম ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার মাইজবাগ গ্রামের মো. হিরোনের স্ত্রী। গাজীপুর মহানগরের পশ্চিম কলমেশ্বর এলাকায় ভাড়া থাকতেন তিনি। ওই এলাকার দুলাল মার্কেটে ‘রানী ফ্যাশন গ্যালারি নামের একটি কাপড়ের দোকান চালাতেন তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রানু বেগম কাপড়ের ব্যবসার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সুদের ব্যবসাও করতেন। সুদের পাওনা টাকা নিয়ে ওই এলাকার মুদিদোকানি নজরুল ইসলাম ও তার ছেলে আশিক ইসলামের সঙ্গে রানুর বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে গত শনিবার সকাল ৮টার দিকে আশিকের বাবা নজরুল ইসলামকে গালাগাল করেন রানু বেগম।

বিষয়টি জানতে পেরে আশিক ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে রানু বেগমের ওপর হামলা করেন। এ সময় রানু বেগমকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। রানুকে বাঁচাতে তার ছেলে হৃদয় মিয়া ও ওসমান হোসেন এগিয়ে গেলে তাদেরও ছুরিকাঘাত করে আশিক পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে রানু বেগম মারা যান।

খবর পেয়ে পুলিশ তার মরগে উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় শনিবার রাতে নিহত রানুর ছেলে হৃদয় বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। পরে ওইদিন রাত ২টার দিকে অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে আশিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ ব্যাপারে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রানু বেগমকে হত্যার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

বঙ্গভবন কর্মকর্তার মেইল ব্যবহার করে জামায়াত আমিরের ‘এক্স অ্যাকাউন্ট’ হ্যাক

গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের টুইটার (এক্স) অ্যাকাউন্ট হ্যাকড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি। হ্যাকাররা জামায়াত আমিরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে আপত্তিকর পোস্ট দেয়। হ্যাক করার ক্ষেত্রে বঙ্গভবন কর্মকর্তার মেইল ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে।

বিষয়টি টের পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে অ্যাকাউন্টটি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি থানায় জিডি করা হয়েছে। এ বিষয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাবে জামায়াত।

রোববার বেলা ১১টার দিকে মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, কে বা কারা অত্যন্ত ষড়যন্ত্রমূলকভাবে টুইটার হ্যাক করেছে। জামায়াতে ইসলামী, জামায়াতের আমির এবং শীর্ষ নেতাদের নামে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে। শনিবার বিকাল ৪টা ৩৭ মিনিটে হ্যাক হওয়ার বিষয়টি তারা ৫টার দিকে টের পান বলে জানান।

জুবায়ের বলেন, “কয়েক দিন ধরে চেষ্টা করে এই অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে। এ কাজে কয়েকজন জড়িত, গভীর ষড়যন্ত্র আছে। আমিরে জামায়াতকে নিয়ে এ ধরনের আপত্তিকর পোস্টের পর তাৎক্ষণিকভাবে একটি দলের কর্মসূচি ঘোষণায় বোঝা যায় যে, ‘ঠাকুরঘরে কে রে, আমি কলা খাইনি’। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছি, বিবৃতি দিয়েছি। রাতেই থানায় জিডি করেছি। পরে আইনিসহ আরো পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, “এটি মারাত্মক একটি ষড়যন্ত্র ও অপপ্রয়াস। নারী, ও দেশের প্রতি আমাদের বক্তব্য খুব স্পষ্ট। আমিরে জামায়াত আমাদের বক্তব্য তুলে ধরছেন। সম্ভবত এসব কারণে জামায়াত ও তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে একটি মহল। এজন্য টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যাক করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও জানাব। এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”

তিনি আরো বলেন, “জামায়াতের জনপ্রিয়তা, বিশেষ করে নারী ভোটারদের ব্যাপক সাড়ার কারণে তাদের বিভ্রান্ত করার জন্য একদল লোক চক্রান্তমূলকভাবে এই সাইবার হামলা করেছে। আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ জানাব।”

টুইটার বা এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক বিষয়ে জামায়াতের সাইবার টিমের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম বলেন, “শনিবার বিকাল ৪টা ৩৭ মিনিটের দিকে সর্বশেষ পোস্ট হয় আমিরের অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত, আপত্তিপর পোস্ট করা হয়। ৪টা ৫৫ মিনিটে আমরা বুঝতে পারি। আমাদের সাইবার সিকিউরিটি টিম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। অল্প সময়ের মধ্যেই তা নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হই। এরপর ৫টা ২২ মিনিটে আমরা সংশোধনীর ঘোষণাটি দিই। পরে ঘটনার কারণ খোঁজার চেষ্টা করে দেখি, বেশ কিছুদিন ধরেই আমাদের সামাজিক মাধ্যমের পেজগুলোতে সাইবার হামলার চেষ্টা করা হয়। এ বিষয়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে আমরা থানায় জিডি করেছি।”

জামায়াতের সাইবার টিমের আরেক সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান হ্যাক হওয়ার নানা তথ্য ডিজিটালি উপস্থাপন করে বলেন, “৪টা ৩৭ মিনিটে নারীদের নিয়ে আপত্তিকর পোস্টটি দেওয়া হয়। ৫টা ৯ মিনিটে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার চেষ্টা করি। একই পোস্ট ৪টা ৫৩ মিনিটে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলায় পোস্ট করা হয়। একই সঙ্গে এ দুটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়। এই হ্যাকের সংবাদগুলো মধ্যরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। প্রথম পোস্টের মাত্র এক মিনিটের মাথায় তার স্ক্রিনশর্ট নেওয়া হয়। রাত ১২টার দিকে সেটি ছড়ানো হয়। তার আগে আমরা পাসওয়ার্ড চেঞ্জ ও বিবৃতি দিয়েছি।”

তিনি বলেন, অ্যাকাউন্ট দুটি হ্যাক করার ক্ষেত্রে বঙ্গভবনের একজন কর্মকর্তার মেইল ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে জড়িত থাকতেও পারেন অথবা অন্য কেউ এটাকে ব্যবহার করতে পারেন। বিষয়টি আমরা সরকারকে জানাব, তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন এবং ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান জামায়াত নেতারা।

রাজনৈতিক মাঠে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু জামায়াত, কী বলছে বাস্তবতা?

0

এইচ এফ রায়হান

দিনাজপুর প্রতিনিধি

সারাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে দাড়িপাল্লা প্রতীকের ব্যাপক প্রচারণা। রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর সভা-সমাবেশ, মিছিল ও গণসংযোগকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে নির্বাচনী উত্তাপ। অনেক এলাকাতেই জনসমাগম ও কর্মী উপস্থিতি নজর কাড়ছে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি।

দীর্ঘদিন রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকার পর জামায়াতের এমন সরব উপস্থিতিকে অনেকেই দেখছেন দলটির শক্ত প্রত্যাবর্তন হিসেবে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ, সিলেট, চট্টগ্রাম ও কিছু নগর এলাকায় দাড়িপাল্লার পক্ষে বাড়তি জনসম্পৃক্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতি জনগণের হতাশা ও ক্ষোভের সুযোগে জামায়াত নতুন করে মাঠে জায়গা তৈরি করছে। তরুণ ভোটার ও ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর একটি অংশ দলটির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে বলেও মত বিশ্লেষকদের।

তবে বাস্তব চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এককভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা জামায়াতের জন্য এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। জাতীয় সংসদে সরকার গঠন করতে প্রয়োজন অন্তত ১৫০টির বেশি আসন, যা বর্তমান সাংগঠনিক শক্তিতে দলটির জন্য সহজ নয়।

অনেক গ্রামীণ এলাকায় জামায়াতের সাংগঠনিক কাঠামো এখনও দুর্বল এবং বহু উপজেলায় দলটির কার্যক্রম নতুনভাবে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বাস্তবতা ও রাজনৈতিক সমীকরণও ক্ষমতার রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসনে ভালো ফল করতে পারে এবং সম্ভাব্যভাবে তারা ‘কিং মেকার’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে। ঝুলন্ত সংসদ তৈরি হলে জোট রাজনীতিতে দলটির গুরুত্ব বাড়বে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে দাড়িপাল্লার এই ঝড় জামায়াতের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান জানান দিলেও, সরাসরি ক্ষমতায় যাওয়া এখনই নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে ভোটের দিন জনগণের রায়ের মধ্য দিয়েই।