বিরামপুর প্রতিনিধি
মুসফিকুর রহমান
প্রশ্নগুলো শুনতে অদ্ভুত মনে হতে পারে, তবে এমন কথা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একজন প্রার্থীর। তিনি বলেছেন, দিনাজপুর-৬ আসনের মানুষ “জিলাপির বিনিময়ে ভোট দেন” বলে “জেলা চাওয়ার” অধিকার নেই।
এবং জেলা হলে আর কিছু হবে না, শুধু “দালাল” তৈরি হবে। অথচ ভৌগলিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে বিরামপুরে জেলা বাস্তবায়ন এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি। তার কাছে জেলা মানে শুধু ডিসি, এসপির নিয়োগ।
তার কাছে জেলা মানে ডিসি, এসপির অফিসে থাকা তথাকথিত “দালাল”। তিনি তাচ্ছিল্য করেছেন বিরামপুরের পূর্ব নাম চরকাই নিয়েও। তিনি উপহাস করে বলছেন, একসময় বিরামপুরে থানাও ছিল না। অথচ ইতিহাস বলে, বিরামপুরেও হতে পারত মহকুমা। এবং সেটি হলে পরবর্তীতে জেলা হওয়া ছিল সময়ের ব্যাপার।
তিনি প্রায়ই বলেন, “আপনাদের এলাকার এই সমস্যা, ওই সমস্যা”। “নিজের এলাকা” এটি তার নয়, শুধু ভাষায় নয়, অন্য কিছুতেও সেটি ফুটে ওঠে প্রায়ই। বিরামপুর পাইলট স্কুলের মাঠে গিয়ে তাই তিনি পশ্চিম দিক কোনটি খুঁজে বেড়ান, অনেক এলাকার নামই শোনেন জীবনে প্রথম। সেটি অবশ্য একদিক দিয়ে স্বাভাবিকও। যার জন্ম, বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে সবই দূরের এক অঞ্চলে, তার কাছে দিনাজপুর-৬ হয়ত শুধুই সংসদে যাওয়ার একটি অবলম্বন।
বিরামপুরসহ ঘোড়াঘাট, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুরের মানুষের আজ সময় এসেছে নিজেদের ভোটের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করার। সময় এসেছে এটি দেখিয়ে দেওয়ার, এ অঞ্চলের মানুষকে কেনা যায় না, সেটি শুধু জিলাপি দিয়ে দূরের কথা। সময় এসেছে, নিজেদের প্রাণের দাবিকে উপহাস করা কাউকে লাল কার্ড দেখানোর। যারা এখনো সেই সময়ে বাস করেন—যখন জিলাপি দিয়ে ভোট কেনা যায়, ভয়ভীতি দেখিয়ে মিছিল মিটিংয়ে নেওয়া যায়, ডিসি-এসপি অফিসে শুধু “দালাল” তৈরি হয়—তাদেরকে ভোটের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার। এ অঞ্চলের মানুষ হয়তো অনেকের কাছেই ‘সহজ-সরল’, তবে এ অঞ্চলের মানুষ যে ‘বোকা’ নন, সেটি দেখিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে আজ।




