এইচ এফ রায়হান
দিনাজপুর প্রতিনিধি
সারাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে দাড়িপাল্লা প্রতীকের ব্যাপক প্রচারণা। রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর সভা-সমাবেশ, মিছিল ও গণসংযোগকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে নির্বাচনী উত্তাপ। অনেক এলাকাতেই জনসমাগম ও কর্মী উপস্থিতি নজর কাড়ছে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি।
দীর্ঘদিন রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকার পর জামায়াতের এমন সরব উপস্থিতিকে অনেকেই দেখছেন দলটির শক্ত প্রত্যাবর্তন হিসেবে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ, সিলেট, চট্টগ্রাম ও কিছু নগর এলাকায় দাড়িপাল্লার পক্ষে বাড়তি জনসম্পৃক্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতি জনগণের হতাশা ও ক্ষোভের সুযোগে জামায়াত নতুন করে মাঠে জায়গা তৈরি করছে। তরুণ ভোটার ও ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর একটি অংশ দলটির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে বলেও মত বিশ্লেষকদের।
তবে বাস্তব চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এককভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা জামায়াতের জন্য এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। জাতীয় সংসদে সরকার গঠন করতে প্রয়োজন অন্তত ১৫০টির বেশি আসন, যা বর্তমান সাংগঠনিক শক্তিতে দলটির জন্য সহজ নয়।
অনেক গ্রামীণ এলাকায় জামায়াতের সাংগঠনিক কাঠামো এখনও দুর্বল এবং বহু উপজেলায় দলটির কার্যক্রম নতুনভাবে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বাস্তবতা ও রাজনৈতিক সমীকরণও ক্ষমতার রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসনে ভালো ফল করতে পারে এবং সম্ভাব্যভাবে তারা ‘কিং মেকার’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে। ঝুলন্ত সংসদ তৈরি হলে জোট রাজনীতিতে দলটির গুরুত্ব বাড়বে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে দাড়িপাল্লার এই ঝড় জামায়াতের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান জানান দিলেও, সরাসরি ক্ষমতায় যাওয়া এখনই নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে ভোটের দিন জনগণের রায়ের মধ্য দিয়েই।




